রাজশাহীতে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজশাহীতে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীতে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমিন।

মামলাসূত্রে জানা গেছে- অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড গোদাগাড়ী শাখার গ্রাহক সাবের আলীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাবের আলী ট্রেডার্স’র অনুকূলে একটি ১০ লাখ টাকার এসএমই সিসি (হাইফো) ঋণ সুবিধা নেয়। যার হিসাব নম্বর ০২০০০০৯৫৭৭৫৯৪। হিসাবটি ২০১৯ সালের ৮ মার্চ  নবায়ন করা হয়। যার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯।

গ্রাহক সাবের আলী ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট  নিজে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হয়ে ১০ হাজার টাকার একটি চেক দিয়ে টাকা ‍উত্তোলনের সময় তার ব্যাংক হিসাবের স্থিতি জানতে চান। সেপ্রেক্ষিতে ব্যাংক থেকে তার ঋণ হিসাবের স্থিতি জানানো হয়। তখন তিনি ৬ লাখ টাকার গড়মিল মনে করেন। অত:পর তিনি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ঋণ হিসাব বিবরণী যাচাই করে দেখেন যে, ২০১৯ সালের ১৬ জুন তারিখে চেক নম্বর ৪৩০৮১৭২ এর মাধ্যমে তার সিসি ঋণ হিসাব হতে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

গ্রাহক সাবের আলী’র হিসাব থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন হওয়ার এক সপ্তাহ পূর্বে তৎকালীন ব্যবস্থাপক আসামী মো. আহসান হাবীব নয়ন গ্রাহক সাবের আলীকে অবহিত করেন যে, ঋণ হিসাবটি শূন্য করার জন্য উক্ত হিসাবের একটি ফাঁকা চেক প্রয়োজন। এজন্য আসামী মো. আহসান হাবীব নয়ন উক্ত শাখার অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী আফজাল হোসেনকে ২০১৯ সালের ১৬ জুন সাবের আলীর বাড়িতে প্রেরণ করেন।

সাবের আলী পূর্বের কথা অনুযায়ী তার ঋণ হিসাবের একটি ফাঁকা চেক যার নম্বর ৪৩০৮১৭২ এর উভয় দিকে স্বাক্ষর করে অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী আফজাল হোসেনকে প্রদান করেন। আফজাল হোসেন ফাঁকা চেক নিয়ে ব্যাংকে আসেন এবং আসামী আহসান হাবীব নয়নকে দেন করেন। চেক পেয়ে আসামী নয়ন নিজ হাতে ছয় লাখ টাকার পরিমান (কথায় ও অংকে) লিখেন।

উল্লেখ্য, উক্ত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আবু বকর সিদ্দিক, চেকের প্রথম ক্যানসেলেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও এক্ষেত্রে তাকে এড়িয়ে আসামী নয়ন নিজেই চেক ক্যানসেলেশন করে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে অফিসার (ক্যাশ) আকতারুজ্জামান’কে চেকটি ক্যাশপূর্বক টাকা তার রুমে নিয়ে আসতে বলেন। আকতারুজ্জামান চেকটি পোষ্টিং করার জন্য পাশের সিটে অবস্থিত সিডি ইনচার্জ (সিনিয়র অফিসার)  আবু বকর সিদ্দিক’র হাতে দেন। তখন আবু বকর সিদ্দিক চেকটি কম্পিউটারে পোস্টিং করে ক্যানসেলেশনপূর্বক পুনরায়  আকতারুজ্জামান’কে দেন। এরপরে  আকতারুজ্জামান চেকটি ক্যাশ করে ৬ লাখ টাকা।

তৎকালীন ব্যবস্থাপক আসামী নয়ন’র কক্ষে নিয়ে তাকে (আসামীআহসান হাবীব নয়নকে) বুঝিয়ে দেন। ​ ​সাবের আলী নিজে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন/গ্রহণ করেননি মর্মে এবিষয়ে তদন্তের দাবি করে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উক্ত ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী হতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দুইদিন পরে সরেজমিনে তদন্ত করে আসামী আহসান হাবীব নয়ন কর্তৃক উক্ত ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের সন্দেহাতীত প্রমাণ পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর তদন্ত প্রতিবেদনেও সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, আসামী আহসান হাবীব নয়ন প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে চেকটি পাশ করে নগদে ৬ লাখ টাকা উত্তোলণপূর্বক আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা হতে পরিচালিত তদন্তে আসামী আহসান হাবীব নয়ন’র বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদনে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

সর্বোপরি আসামী আহসান হাবীব নয়ন ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নিজে গ্রাহক সাবের আলী’র ব্যাংক হিসাব নং ০২০০০০৯৫৭৭৫৯৪ এ তিনটি জমা ভাউচার নং যথা ০৯৩৬৫১৪, ০৯৩৬৫১৫ ও ০৯৩৬৫১৬ এর মাধ্যমে ৩*২০০০০০= ৬,০০০০০/- টাকা জমা প্রদান করে আলোচ্য অপরাধ প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

​এমতাবস্থায়, আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন, সাবেক ব্যবস্থাপক (প্রিন্সিপাল অফিসার), অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, গোদাগাড়ী শাখা, রাজশাহী পিতা-মো. হারেজ উদ্দিন, বাসা নং ১২৭/৪, বহরমপুর, ব্যাংক কলোনী, জিপিও-৬০০০, রাজপাড়া, রাজশাহী কর্তৃক ব্যবস্থাপক হিসেবে উক্ত শাখায় দায়িত্ব পালনকালে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করে উক্ত শাখার গ্রাহক সাবের আলী’র সিসি ঋণ হিসাব হতে ৬ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :