রাজশাহীতে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের ক্ষমতার কষাঘাতে নিপিড়নের শিকার তরুণ সাংবাদিকরা

রাজশাহীতে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের ক্ষমতার কষাঘাতে নিপিড়নের শিকার তরুণ সাংবাদিকরা

রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহীতে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের ক্ষমতার কষাঘাতে দফাই দফাই নিপিড়নের শিকার হচ্ছে নতুন প্রজন্মের তরুন সাংবাদিকরা যা পুরো সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের হতাশার সাগরে ভরাডুবি। যেখানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলছেন “তরুন সাংবাদিকরা পরিবর্তনের কারিগর” সেখানে রাজশাহীর তরুন সাংবাদিকরা সিনিয়রদের নিকট লাঞ্চিত ও নিপিড়ীত হচ্ছে বার বার।

রোববার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় একশন এইড বাংলাদেশ আয়োজিত সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে ‘একশনএইড ইয়াং জার্নালিস্ট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তরুণদের এজেন্ডাগুলো তুলে ধরা এবং অবদান রাখার জন্য তরুণ সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি তরুণ সাংবাদিকরা পরিবর্তনের কারিগর বলে আখ্যায়িত করেছেন । অথচ রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মাঝে এত বৈষম্য।

গত ৩১ অক্টোবর ( রবিবার) সকাল ১০ টায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপসারণ ও ৩২ ধারার “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন” বাতিলের দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করে রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন। এই আইন বাতিলের সবচেয়ে বড় সহায়ক ভুমিকা পালন করে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব।

সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে এই আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে ছুটে আসে কথিত সাংবাদিক নেতা রফিকুল ইসলাম @ রফিক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এখন সকলের প্রশ্ন, যে কেউ মানববন্ধনসহ যেকোন কর্মসূচি দিতে পারে। কিন্তু সাংবাদিক রফিক কেন গেল আর কোন স্বার্থে গেল? এবিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছে রাজশাহী প্রেসক্লবসহ কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠন।

পরে তরুনদের জীবন ভুষিভুত করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে তিনজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়, যা খুবই ন্যক্কারজনক। পরে তরুন সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গিয়ে জানতে পারে অজানা অনেক ঘটনা। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কথিত সাংবাদিক নেতা রফিকের অজানা অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে সবার সামনে। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছি বাজারে বাবার সাথে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতো। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের হাইওয়াসা প্রজেক্টের চাকরি নেন এবং সেখানে মোটা অংকের টাকা আত্নসাতের দায়ে সেই চাকরি হারান। এরপর শুরু হয় তার বিলাসি জীবন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে চরমপন্থীর হাতে খুন হন দুর্গাপুর পৌরসভার ৮ নং কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন। সেই হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। এই রফিকের বিরুদ্ধে অগনিত অভিযোগ রয়েছে, যা আগামী তুলে ধরা হবে। শুধু এই রফিক নয়, রাজশাহীতে মুলধারার দাবী করা ১৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের তথ্য বিবরণ উঠে এসেছে। মাত্র কিছু দিন আগে ত্রানের চাউল চুুরির অভিযোগ উঠে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে মুলধারার দাবী করা সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ঐ নেতার বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিষ্ফোরক মামলা রয়েছে। এই নিয়ে রাজশাহী মিডিয়া পাড়ায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় চলছে। যা আগামী পর্বে তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :