রাজশাহীতে জব্দকৃত ১ লাখ ১৮ হাজার ভোজ্যতেল বিক্রির অপেক্ষায়

রাজশাহীতে জব্দকৃত ১ লাখ ১৮ হাজার ভোজ্যতেল বিক্রির অপেক্ষায়

রাজশাহী

মোঃ ইসরাফিল হোসেনঃ

রাজশাহী জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত তিন দিনে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। এসব তেল টিসিবির মাধ্যমে ১১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হবে। এরইমধ্যে তেলগুলো টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির অনুমতির জন্য রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ আবেদনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম।

তিনি বলেন, গত ৯ মে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে দুটি গুদামে অভিযান চালিয়ে ২৬ হাজার ৭২৪ লিটার (২০৪০০ লি. + ৬৩২৪ লি.) খোলা সয়াবিন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মো. শহিদুল ইসলাম স্বপনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক রিপন সরকার (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) গত ১০ মে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ একটি আবেদন করেন জব্দকৃত তেলগুলো টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির অনুমতির জন্য।

পরদিন (১১ মে) পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের ৪টি গুদাম থেকে আরেকটি অভিযানে মোট ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার পামওয়েল ও খোলা সয়াবিন জব্দ করা হয়। ওই দিনই (১১ মে) দিবাগত রাতে পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হয়। এখন অনুমতি পেলেই তেলগুলো টিসিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তেলগুলো টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে। বর্তমানে জব্দকৃত তেলগুলো জেলা পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে বলে জানান জেলা মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম।

জেলা পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বেশি মুনাফার লোভে রোজার আগে থেকে এসব ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে রেখেছিলেন। রাজশাহীর বাজারে কৃত্রিম ভোজ্যতেল সংকটের জন্য এরাই দায়ী। তারা তেলের ব্যবসার বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাই সব তেল জব্দ করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বানেশ্বর বাজারের পাঁচ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন, বানেশ্বর বাজারের সরকার অ্যান্ড সন্সের সত্ত্বাধিকারী শ্রী বিকাশ সরকার ওরফে গোলাপ (৫৮), এন্তাজ স্টোরের মালিক মো. এমদাদুল হক (৪০), মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক শৈলেন কুমার পাল (৬৫), রিমা স্টোরের মালিক রাজিব সাহা (৩৭) ও ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১১১৭) ড্রাইভার মো. লিটন (২৫)।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৫ জনকে বুধবার (১১ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা ভঙ্গ ও জনবিরোধী এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :