রাজশাহীতে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

রাজশাহীতে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যতই ঘৃন্য রাজনীতি করা হক না কেন বাংলাদেশের মানুষের মনিকোটা থেকে তাঁর নাম কখনোই মুছে ফেলা যাবেনা। কারণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না জন্মালে বাংলাদেশ নামে কোন ভূখন্ডের সৃষ্টি হতনা।

দেশ যখন কঠিন সময় পার করছিলো এবং জনগণ যখন হানাদার বাহিনীর আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো ঠিক তখনই জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা দেন এবং নিজে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেন। অথচ এই সে সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতের বিলাসবহুল হোটেলে ফুর্তিতে দিন কাটাচ্ছিলেন। 

তারা যুদ্ধ না করেই মুক্তিযোদ্ধার দল বলে দেশবাসীকে ধোকা দিয়ে আসছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে বেলা ১১টায় নগরীর মালোপাড়াস্থ্য বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিএনপি’র প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরার ৩৪ জন, পাবনার ৪৭ জন নেতাকর্মীকে ষড়যন্ত্রমূলক ফরমায়েশি সাজা প্রদান এবং বিএনপি’র বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহম্মেদকে অযাচিতভাবে কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী এ্যাডভোকটে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই কথাগুলো বলেন।

বর্তমান সরকার দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া সারা বাংলার মানুষকে একত্রিত করে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন এবং যুদ্ধ পরিচালনা করে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন ভূখন্ড তৈরী করেছিলেন। অথচ এই সরকার তাঁর বীরবিক্রম খেতাব বাতিলের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনগণের চোখ অন্যা দিকে ফিরিয়ে নিতে এই অবৈধ সরকার এই ঘৃন্য রাজনীতি করছে। আলাজাজিরা চ্যানেলে এই সরকারকে নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়। যা ফেসবুকসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ ম্যধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের দূর্নীতি, দেশকে বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত, সরকার প্রধানের ও তাঁর অনুগতদের মাফিয়া সঙ্গে সু-সম্পর্কসহ অন্যান্য বিষয়গুলো এই টিভি চ্যানেল তুলে ধরেন।

এ নিয়ে সারা পৃথিবী জুড়ে ছিছিকার পরে গেছে। এই অবস্থা আড়াল করতেই এই নাটক সাজানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দুলু আরো বলেন, ২০২১ সাল নয় আগামী ১ মার্চ বিভাগীয় সম্মেলন থেকেই এই ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া সরকারের পতন ঘাটানো হবে। আর এই আন্দোলনে সকলকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে মহানগর ও জেলা বিএনপিকে একসাথে কর্মসূচী ও আন্দোলন করার পরামর্শ দেন দুলু। 

উপস্থিত জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে মার্চ মাসের মধ্যেই এই সরাকরের পতনের জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে বক্তব্যে উল্লেক করেন। এদিকে রাজশাহী জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেৃতৃবৃন্দ নগরীর অলোকার মোড় হতে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে নগীরর বিভিন্ন দুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে মহানগর বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। 

সমাবশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী এ্যাডভোকটে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

বিশেষ অতিথি অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল হক রানা।উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বতর্মান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন, সদস্য তোফায়েল হোসেন রাজু, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শাফিক, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আল-আমিন সরকার টিটু, সদস্য সচিব নাজমুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলম মাস্টার, মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম সালাম রোজ, বাঘা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফকরুল ইসলামস বাবলু, দূর্গাপুর উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমাম ফারুক মামুন, বাঘা পৌরসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুরুজ্জামান ও পুঠিয়া বিএনপি’র সদস্য সচিব এনতাজ বাবু । 

আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদল সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান ভুট্টো, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, যুগ্ম সাধারণসম্পাদক মীর তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার, রাজশাহী মহানগর মহিলাদলের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট রওশন আরা পপি, নুরুন্নাহার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহরিয়ার আলম বিপুল, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাাদক আকবর আলী জ্যাকী ও রাবি ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রাহিসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী। 

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :