রাজশাহীতে মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রির অভিযোগ

রাজশাহীতে মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রির অভিযোগ-রাজশাহী টাইমস

রাজশাহী

লিয়াকত হোসেন রাজশাহী:

রাজশাহী পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পুড়াপুকুর এলাকায় মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। 

জমি বিক্রির ঘটনায় অভিযুক্ত আসলামের বাড়ি পবা উপজেলার খড়খড়ি কালুমের গ্রামের বাসিন্দা। 
উক্ত ঘটনার পেক্ষিতে মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি বিক্রির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে সাধারণ জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে।এসময় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করে সাধারণ জনগণের মাঝে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাজী মানুষ আবু বক্কর সিদ্দিক (বাক্কার হাজী) সওয়াবের আশা ও ইসলাম ধর্ম শিক্ষার উদ্দেশ্য ১৯৯৭ সালে ৮ বিঘা জমি দান করে গিয়েছিলেন। অথচ ভুয়া সভাপতি আসলাম সরকার ও তার দুই সহযোগী মসদুল ও রবিউল মিলে রহমানিয়া কমপ্লেক্সের নিকট এই জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। 

 মাদ্রাসার ভুয়া কমিটি গঠন ও ভুয়া রেজুলেশন খাতা তৈরির করে মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি বিক্রির ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে এই স্বার্থন্বেষী চক্র। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ ও করেছেন এলাকার সাধারণ জনগণ।এসময় উপস্থিত ছিলেন পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু, কাজি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক  ইউপি মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

 বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাফ আলী মন্ডল ও এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন। তখন তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। আমি জড়িত থাকার প্রমান দিতে পারলে আমি এই পারিলা ছেরে চলে যাবো। 

এসময় বক্তারা বলেন , আসলাম এলাকার সকল মানুষের মৃতের পর যে জায়গায় দাফন হবে সেই জায়গা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে এই জমি উদ্ধার করতে প্রয়োজনে এলাকাবাসীরা নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছি।
  এ বিষয়ে মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আকরাম হাজি বলেন, আসলাম পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কথা বলেছিলেন মিটিংয়ে। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। তাকে সভাপতিও করা হয়নি। অথচ কিভাবে সভাপতি হয়ে আমাদের মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি বিক্রি করে দিল তা আমাদের জানা নেই। আমাদের ধর্মের উপর আঘাত এনেছে সে। এর বিচার যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে ।

 বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন- একই জমি দুইবার দান করা সম্ভব না। অথচ তারা দানের জমি বিক্রি করলো কিভাবে? এই জমি কেনা বেঁচার সাথে জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করেন। এদিকে জমি বিক্রির পর থেকেই আসলামকে এলাকায় আর দেখা যাইনি বলে জানা গেছে। 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এলাকাবাসীরা তার  মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রহমানিয়া কমপ্লেক্স নিজ অর্থায়নে মাদ্রাসা, এতিমখানা করে নিজেই চালানোর জন্য জমিটা নিয়েছে। তবে দান করা জমি বিক্রি হয় না। তাই মূল্য দেখিয়ে রহমানিয়া কমপ্লেক্সকে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :