রাজশাহীতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্মকর্তার খোয়া যাওয়া ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উদ্ধার

রাজশাহীতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্মকর্তার খোয়া যাওয়া ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উদ্ধার

রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্মকর্তার খোয়া যাওয়া ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ নগরীর ডিংগাডোবা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ টাকা উদ্ধার করে।

এসময় টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া অটোরিকশা চালক আনোয়ার হোসেনকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে দেড়টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

আরএমপি কমিশনার জানান, রবিবার (৩০ মে) সকাল ৭ টার দিকে ব্যাংক কর্মকর্তা মোক্তাদির আহমেদ (৪৯) রাজপাড়া থানার বহরমপুর মোড় হতে ভদ্রা যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। তার কাছে একটি ব্যাগ ছিল। সেই ব্যাগে নগদ ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, তার মোবাইল ফোন নম্বর, অফিসের আইডি কার্ড এবং তার বাড়ি ও অফিসের চাবি ছিল।

মোক্তাদির আহমেদ সকাল সাড়ে ৭টায় ভদ্রা মোড়ে পৌঁছান। এরপর তিনি ভদ্রা বাস কাউন্টারে যাওয়ার সাথে সাথেই টাকার ব্যাগসহ অটোরিকশাচালক উধাও হয়ে যান। তিনি অটোরিকশাটিকে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর পাননি। এরপরেই বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিডি করেন তিনি। সেই পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিককে বিষয়টি অবগত করেন।

পুলিশ কমিশনার আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরীকে অটোরিকশা চালকে আটক করে টাকা উদ্ধারের নির্দেশ প্রদান করেন। সাইবার ক্রাইম ইউনিট দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অটোরিকশা চালককে সনাক্ত করে।

সোমবার (৩১ মে) সকাল ১০টায় বোয়ালিয়া মডের থানার এসআই মো. গোলাম মোস্তফা, এসআই উত্তম কুমার রায় রাজপাড়া থানার ডিংগাডোবা মোড় থেকে অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেনকে অটোরিকশাসহ আটক করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার হোসেন টাকাসহ ব্যাগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে তাকে সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে তিনি টাকার ব্যাগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

পরে রাজপাড়া থানার মহিষবাথান উত্তরপাড়া রেললাইনের ধারে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ও কালো ব্যাগ, আইডি কার্ড, চাবি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, টাকার ব্যাগের মধ্যে মোক্তাদির আহমেদের ফোন নম্বর ছিল। অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেন তার সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। এতে প্রতীয়মান হয় অটোরিকশাচালকের অনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল। অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান আরএমপি কমিশনার।

সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসংঙ্গত, নগরীতে অপরাধ প্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে নগরজুড়ে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এর ফলে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দূর্ঘটনার কারণ, হারিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার, চুরি, ছিনতাইসহ অনেক সমস্যা দ্রুত সমাধান করছে আরএমপি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :