রাজশাহীর তানোরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

রাজশাহীর তানোরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ শুক্রবার (১লা অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।

এসময় সাংসদ ফারুকের সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছেন, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক পাপুল সরকার, পৌর যুবলীগ সভাপতি রাজীব সরকার হিরো ও কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দীনসহ অন্তত ১২ জন।

স্থানীয়রা জানান, তানোর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরোধ চলছিল। একারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা আহবান করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা একরামুল হক।

তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘মঞ্চে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু বাক্কারকে বসানো হয়। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও মঞ্চে আমার জায়গা হয়নি। এতে তার সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সামনেই সমর্থকদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের মঞ্চে উঠা দেখেই তারা হইচই শুরু করে। পরে তারা মারপিট করে। পরিকল্পিতভাবেই এমপি ও তার ভাতিজা উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না হামলা করিয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার পায়ের রগ কেটে গেছে।’ তিনি জানান, তাদের হামলায় সাংগঠনিক সম্পাদক পাপুল সরকার, পৌর যুবলীগ সভাপতি রাজীব সরকার হিরো, কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দীন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন খান, আকতার মাস্টার, বিজ্ঞান প্রযুক্তি সম্পাদক অধ্যক্ষ মিজান, মৃদুল সরকার, শম্ভুনাথসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের প্রার্থীর নাম এককভাবে পাঠাতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি একরামুল হক বলেন, সেখানে আগে থেকেই দু’পক্ষের বিরোধ ছিলো। একারণে কেন্দ্র জেলা আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব দেয় প্রার্থীর নাম পাঠাতে। সভা শুরু হতেই মামুনের নেতৃত্বে শতাধিক লোক হলে আসে। এসময় তারা এসেই হইচই শুরু করে। পরে চেয়ার ভাংচুর করা হয়। পরে অবশ্য সভা হয়েছে।

এবিষয়ে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার অনুসারী উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু বাক্কার ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিজয়ী হলেও তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। কোন মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। একটু হইচই, চেয়ার ভাংচুর হয়েছে। পরে শান্তিপূর্ণভাবেই সভা শেষ হয়।

এঘটনায় তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসানও পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোন পক্ষই এখনও অভিযোগ করেনি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :