রাজশাহী পবা এলাকার মাটি খেকোরা বেপরোয়া ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব

রাজশাহী পবা এলাকার মাটি খেকোরা বেপরোয়া ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব

রাজশাহী

লিয়াকত রাজশাহী:

দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন উপজেলায় ফসলি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো রাজশাহীর পবা উপজেলা। এ উপজেলার মধ্যে বড়্গাছি, রামচন্দ্রপুর হাট, জয়পুর, সারেংপুর, কাল চিকা, বা কয়রা এলাকায় বেশি পুকুর খনন হচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। এনিয়ে পবা উপজেলায় মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিলও করেছে এলাকাবাসী। এর পরেএ কিছুতেই থামছেনা এই পুকুর খননের মহোৎসব। তবে এই পুকুর খননের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সড়কের। 

এবার রাজশাহী পবা উপজেলাবাসী মাটিবাহী ট্রাক্টরে অতিষ্ঠ হয়ে ইওএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করতে যাচ্ছে এলাকাবাসী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পবা উপজেলার বড়্গাছিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সবার কাছে থেকে টাকার বিনিময়ে অনুমতি নিয়ে আড়ং নামে এক ব্যক্তি আলুর জমিতে পুকুর খনন করছে আবার সেই মাটি পরিবহন করা হচ্চে অবৈধ এম,বি,এ ইটভাটায় এতে করে কমছে আবাদি জমি অন্য দিকে রাস্তার বেহাল দশা এ যেন দেখার কেউ নেই। 

এবিষয়ে মাটি পরিবহন কারী আড়ং বলেন, আমি সব কিছু ম্যানেজ করে মাটি পরিবহন করছি আপনি আমার বিরুদ্ধে যা রিপোর্ট করার করেন বলে ফোন কেটে দেই। 
এবিষয়ে পবা থানার ওসিকে অবগত করা হলে তিনি বলেন থানায় এসে দেখা কইরেন।

রামচন্দ্রপুর সারেংপুর এলাকায় ফসলি জমিতে ভেকু দালাল মান্নান ও ট্রাক্টরের দালাল আজাদ এর সহোযোগিতায় রফিক হাজি এ পুকুর খনন করছেন। ওই পুকুরের মাটি প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাতায়াত করছে খড়খড়ি- কানপাড়া সড়ক দিয়ে।

এতে ওই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় মাটি পড়ে থেকে ঘুরছে প্রায় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীন ওই ট্রাক্টরের অবাধ যাতায়াতে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এই এলাকার সাধারণ মানুষ। পুকুর খননকারীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মেজ ভালাম এলাকার রাজু, ভালামের নাজির, কয়রার নবিবর ও নুরইসলাম, খড়খড়ির মুকুল। এরা দলীয় প্রভাব ও সকল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ কাজ হচ্ছে  যা এদের বক্তব্যই উঠে আসে।

আফসার আলী বলেন, এলাকার সব প্রভাবশালী ব্যক্তি ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে। আর আমরা পড়েছি ভোগান্তিতে। প্রতিবাদ করতে গেলে তারা (প্রভাবশালীরা) প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভেকু দালাল মান্নানের ও ট্রাক্টরের দালাল আজাদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি থানাসহ সকল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ পুকুর খনন করছি। থানাকে প্রতিদিন ১ টি ড্রাম ট্রাকের মাটির সমপরিমাণ টাকা দিচ্ছি আপনার যা কিছু লিখার লিখুন। 

এবিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহি অফিসার সিমুল আক্তার এর নিকট মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :