রাজশাহী বিভাগে করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থা হিমশিম

রাজশাহী বিভাগে করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থা হিমশিম

রাজশাহী

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

শুধু আইসিইউ সংকট নয়, করোনা পরীক্ষা করাতেই হিমশিম খেতে হয় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার মানুষকে। পুরো বিভাগে দুটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা মাত্র ৬২৮টি। আর আইসিইউ ২০টি। জেলাগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটিতে আছে করোনা পরীক্ষার আরটিপিসিআর ল্যাব। একটিতে নেই টেস্টের কোন ব্যবস্থা, অন্যগুলোর ভরসা জিনএক্সপার্ট অথবা অ্যান্টিজেন।

বিভাগটির জেলা ৮টি। এর মধ্যে শুধু দুটি মেডিক্যাল কলেজে পূর্ণাঙ্গভাবে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। অন্যগুলোয় করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই নামমাত্র। ফলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওপরই নির্ভরশীল রাজশাহী বিভাগের বেশিরভাগ জেলার করোনা আক্রান্তরা।

হাসপাতালটি কোভিড রোগীদের সাধারণ শয্যার সংখ্যা ২০০টি। সেন্ট্রাল অক্সিজেনের পাশাপাশি আছে ১০টি আইসিইউ শয্যা, ২৩টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা আর ১০টি ভেন্টিলেটর। করোনা শনাক্তের জন্য রয়েছে আরটিপিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা।

নাটোর সদর হাসপাতালে ১০০টি সাধারণ শয্যা আর জিন এক্সপার্ট পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া আর কোন সুবিধা নেই করোনা চিকিৎসার জন্য।

আর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালেও করোনা চিকিৎসায় শুধু ৩১টি সাধারণ শয্যা আর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নেই।

এছাড়া, বগুড়ায় দুটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে শুধু জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে আছে ১০টি আইসিইউ, ১২টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, ২টি ভ্যান্টিলেটরের ব্যবস্থা। পরীক্ষার জন্য আছে আরটিপিসিআর ল্যাব। তবে অন্য হাসপাতালটি এখনো রয়ে গেছে আগের অবস্থাতেই।

এদিকে, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২৫টি সাধারণ শয্যা আর অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া করোনা চিকিৎসার আর সব সুবিধা এখনো অনুপস্থিত।

আর, জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য মাত্র ১০টি সাধারণ শয্যা আর সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নেই।

অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে ২০টি সাধারণ শয্যা, ৪টি আইসিইউ, ১টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ২টি ভেন্টিলেটর থাকলেও নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা। টেস্ট হচ্ছে আরটিপিসিআর আর অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে।

আর, পাবনা সদর হাসপাতালে ৩০টি সাধারণ শয্যা আর জিন এক্সপার্ট পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া আর কোন সুবিধায় নেই।

দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ১৩ মাস পার হলেও এখনো কেন জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়লোনা? এমন প্রশ্নে অসহায় আত্মসমর্পনই করলেন সিভিল সার্জন আর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়করা।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পরিতোষ কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের এখানে আইসিইউ-সিসিইউ বেড নাই। ভেন্টিলেশন ও ন্যাজাল ক্যানোলা এগুলো দিতে হলে সেন্ট্রাল অক্রিজেন সাপ্লাই লাগে। কারণ এটাতে ৪০-৬০ লিটার করে অক্সিজেন দেয়া লাগে। যেটা সিলিন্ডারে আমাদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে পারলে এ সমস্ত বিষয়গুলো ইভেকটিভ হয়। এখন আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। এটা যাদের সামান্য কষ্ট হচ্ছে বা স্যাচুরেশন ৯০ এর ওপর আছে তাদের কিছুটা হেল্প করতে পাচ্ছি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ‘শুধু আইসিইউ বেড বসালে হবে না, সেটার জন্য দক্ষ জনবল আর অবকাঠামো লাগবে। সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক। একদিনে চট করে করে ফেলা সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ২৩১ জন। আর মারা গেছেন ৫২৫ জন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :