রাজশাহী হলিদাগাছীতে তিন ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন প্রশাসন নিরব  

রাজশাহী হলিদাগাছীতে তিন ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন প্রশাসন নিরব  

রাজশাহী

লিয়াকত হোসেন রাজশাহীঃ 

রাজশাহী চারঘাট উপজেলাজুড়ে তিন ফসলি জমিতে অবৈধ ভাবে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করার হিড়িক পড়েছে। কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে রাজশাহী চারঘাট উপজেলার সলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছী জায়গীর পাড়া সংলগ্ন বিলে প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলী জমি নষ্ট করে পুকুর খননের কাজ শুরু করছেন।

সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এ কাজ শুরু করছেন হলিদাগাছী সরকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শাহাবুদ্দিন সরকার ও একই এলাকার জাফর হক(কচি) কচি বর্তমানে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠান কর্মরত আছেন। স্থানীয় কৃষকের ভাষ্যমতে, আমাদের অনুমতি ছারায় ভুট্টা, আখ ও পাটক্ষেত নষ্ট করে জমির উপর দিয়ে ভেকু গাড়ি নিয়ে গেছে প্রায় ১/২ কিলোমিটার।

কিছু বলতে গেলে কৃষকদেরকে নাহিদ ও শান্ত নামে দুই ব্যাক্তি হুমকি ধামকী দিচ্ছে এবং পুকুরের মাটি পরিবহন করে বিক্রি করার জন্য রাস্তা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ করেন। আরও অভিযোগ আছে, উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করেই এই কর্মকাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।  অন্যদিকে পুকুর খননের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্য কৃষকেরা। 

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন এলাকায় ফসলি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এর ফলে একদিকে যেমন জমির পরিমাণ কমছে অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। এই জন্য সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে এই পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন তারা। 

পুকুর খনন বিষয়ে জমির মালিক শাহবুদ্দিন সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন প্রিন্সিপাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জামাত-বিএনপি’র লোকেরা পুকুর খনন করতে পারলে আমি পারবো না কেন? তাই আমার জমিতে আমি পুকুর খনন করছি।কৃষকের জমির ফসল নষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এটা জানিনা।এ বিষয়ে পুকুর লিজ নেওয়া আবু জাফর কচি বলেন,আমি সলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের লোকজনকে  পুকুর খনন ও মাটি পরিবহনের দায়িত্ব দিয়েছি। 

অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন যেভাবে বাড়ছে, সামনে আরো বেশি পরিমাণ জমির ফসল নষ্ট হবে। আর এই পুকুর খননের কারনে বন্ধ হবে বিলের পানি নিষ্কাশন। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ব্যহত হবে চাষাবাদ। আবার মাটি পরিবহনে ভাঙছে রাস্তা-ঘাট, কৃষিজমি হারাচ্ছে তার স্বরূপ এবং প্রকৃতি হারাচ্ছে তার বৈচিত্র্য। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকার প্রভাবশালীরা এসব পুকুর খননের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের যেন কিছুই করার নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এলাকার সাধারণ কৃষকদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটাই দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করা হোক। অবৈধ পুকুর খননকারীকে আইনের আওতায় আনা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সামিরা ইসলাম বলেন,আপনার অভিযোগ ও তথ্য যদি সঠিক হয় তাহলে এ পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :