রানীশংকৈলে প্রেম করে বিয়ে করার কারনে জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন-শ্বাশুড়ি আটক

রানীশংকৈলে প্রেম করে বিয়ে করার কারনে জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন-শ্বাশুড়ি আটক

জাতীয়

স্টাফ রিমাহাবুব আলম রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়িতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক যুবক। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমন ভিডিও সামাজিক মাধমে ভাইরালের পর পুলিশ ওই শ্বাশুড়িকে আটক করে। আজ শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্বাশুড়ি সেলিনা আক্তারকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রানীংশকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহদি ইকবাল। সোমবার জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় ভাঙ্গাবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, একই এলাকার করিমুলের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই যুবকের। দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এক পর্যায়ে পরিবারকে না জানিয়ে তারা বিয়ে করে আত্মগোপনে থাকেন। এদিকে মেয়ের পরিবার ছেলের পরিবারকে মেয়ে ফিরিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। বিয়ে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়। মেয়ের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ছেলের পরিবার ভীত হয় এবং ছেলেকে ফিরে আসার আকুতি জানায়। মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ছেলেও মেয়েকে পরিবারের কাছে দিয়ে আসে।

পরে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় যান ওই যুবক। তখনই মেয়ের বাবা-মা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করতে থাকেন। ওই যুবক চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান, বারবার ক্ষমা চান। তবুও তাকে মারধর করতে থাকে মেয়ের পরিবার। শেষে পুলিশ গিয়ে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে যুবককে।

রানীংশকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহদি ইকবাল বলেন, ‘নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই আজকে এক মহিলাকে আটক করেছি। নির্যাতনকারী অন্যান্যদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা রেকর্ডের পর তাকে আদালতে তোলা হবে।’

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শাওন আমিন নামে এক ব্যক্তি নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ইতোমধ্য ভিডিওটি কয়েকশ মানুষ শেয়ার ও মন্তব্য করেছেন। অনেকে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :