রাবিতে সংবাদকর্মীকে মারধর: হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

রাবিতে সংবাদকর্মীকে মারধর: হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

রাজশাহী

মোঃ ইসরাফিল হোসেনঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক সংবাদকর্মীকে মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন কাজলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত কাজল মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী সাহাবুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের রাবি প্রতিনিধি।

সোমবার (৩০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. শামীম হোসেন সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, হলের আবাসিক শিক্ষক আমিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক, ড. মেসবাউস সালেহীন ও ড. আলী আহম্মদ সৈয়দ মোস্তফা জাহিদকে সদস্য করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে, রোববার রাতে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা। এসময় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে হলের প্রাধ্যক্ষকে বহিষ্কার করা, অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা এবং হলে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে তা পরিষ্কার করা।

এদিকে, সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। এসময় উপ-উপাচার্য জাকারিয়া, অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূর উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ছাত্রলীগ নেতা কাজলকে হল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা জানান, আলোচনায় মাদার বখশ হল প্রাধ্যক্ষ ড. শামীম হোসেনকে দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে সর্তক করেন উপাচার্য। পাশাপাশি আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

রোববার (২৯ মে) রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের টিভি কক্ষে ধূমপান করতে নিষেধ করায় শাহাবুদ্দিনকে শারীরিক নির্যাতন করেন ছাত্রলীগ নেতা কাজল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, টিভি রুমে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলা দেখার সময় কাজল ধূমপান করছিলেন। তখন শাহাবুদ্দিন তাকে নিষেধ করলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে কাজলসহ কয়েকজন শাহাবুদ্দিনকে মারধর করেন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :