‘সবই আল্লাহর লীলাখেলা’ এ কথা কি বলা যাবে?‘সবই আল্লাহর লীলাখেলা’ এ কথা কি বলা যাবে?

‘সবই আল্লাহর লীলাখেলা’ এ কথা কি বলা যাবে?

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

সমাজে অনেককেই, ‘সবই আল্লাহর লীলাখেলা’ কিংবা ‘মাওলার লীলাখেলা’ ইত্যাদি বলতে শোনা যায়। আবার অনেকে আশ্চর্যজনক কোনো কিছু দেখলেও এ কথাটি বলে থাকেন। আসলে মুসলিমদের জন্য এ কথাটি বলা কি বৈধ? এ কথাটি বলার বিধানই বা কী?

সমাজে আশ্চর্যজনক কোনো কিছু ঘটলে বা সংঘটিত হতে দেখলে অনেকে এ শব্দটি বলে থাকেন। আল্লাহ তাআলা শান ও মর্যাদার সঙ্গে এ শব্দটির ব্যবহার একেবারেই ঠিক নয়।

আল্লাহর শানে ‘লীলাখেলা’ শব্দটি আপত্তিজনক। কোনো মুসলিম এ শব্দটি বলতে পারে না। বরং আল্লাহর সঙ্গে ‘লীলাখেলা’ শব্দটি বলা অপ্রাসঙ্গিক। কারণ- বাংলা অভিধান ‘bangladict.com/লীলা’-এ শব্দটির অর্থ দেয়া আছে-

লীলা বি. ১ কেলি, প্রমোদ, প্রমোদপূর্ণ ক্রীড়া; ২ হাবভাব (লীলায়িত, সলীল); ৩ অন্তরের আনন্দ বাইরে প্রত্যক্ষগোচর করার মনোবৃত্তি; ৪ দেবতার খেলা (রাসলীলা); ৫ দেবতা বা মানুষের নির্দিষ্টকালব্যাপী কার্যকলাপ (জীবলীলা, ভবলীলা, কৃষ্ণের নরলীলা); ৬ গূঢ় ধর্মপূর্ণ কেলা বা কাজ (‘কে বোঝে তোমার লীলা লীলাময়ী তারা’)। এর কোনোটিই মহান আল্লাহ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‘লীলাখেলা’ শব্দের প্রচলন

‘লীলা খেলা’ শব্দের সঙ্গে হিন্দুদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক গোপীদের সঙ্গে লীলা খেলার এক নোংরা ও অশ্লীল ‘প্রেম কাহিনী’ জড়িয়ে রয়েছে। যদিও, ‘রাস-লীলা’ নিয়ে বেশকিছু মত প্রচলিত আছে। এরমধ্যে বহুল জনপ্রিয় দু’টি মত-

– কথিত আছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর শ্রীকৃষ্ণ পাপমোচন ও পূর্ণলাভে গঙ্গাস্নানের স্বপ্নাদেশ পান। এই থেকেই শুরু হয় ‘রাস মেলা’।

– আবার অন্য মতালম্বীদের মতে, কার্তিক মাসে দুর্গাপুজোর পর পূর্ণিমাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে ‘লীলা’-য় মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। আর সেই থেকেই এই পূর্ণিমাতে ‘রাস-লীলা’ পালিত হয়ে আসছে। (bengali.oneindia.com)

তাছাড়া এটাকে‌ ‘রাসলীলা’ও বলা হয়। রস’ শব্দ থেকে ‘রাস’-এর উৎপত্তি। ‘রস’ মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম। এ থেকেই সমাজে এ কথাটি প্রচলিত আছে যে- ‘কৃষ্ণ করলে লীলা খেলা, আমরা করলে দোষ!’

মুসলিমদের জন্য আপত্তি

যেহেতু ‘লীলা খেলা’ শব্দটি হিন্দু ধর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই মুসলিমদের জন্য এ শব্দটি চরম আপত্তিজনক ও মহান আল্লাহর শান ও মানের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাঙ্গর্ষিক। সুতরাং মহান রাজাধিরাজ আল্লাহর শানে এই অশ্লীলতার ইঙ্গিতবাহী শব্দটি ব্যবহার করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। তা থেকে বিরত থাকা ঈমানের একান্ত দাবি। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে আশ্চর্যজনক কোনো কিছু দেখলে মুমিন মুসলমান বলবেন-

سُبْحَانَ الله

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহ!

অর্থ : ‘মহা আল্লাহ পবিত্র।’ আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি বলা‌ সুন্নাত। এটি বহু হাদিস দ্বারা সুপ্রমাণিত।

সতর্কতা

না জানার কারণে মুমিন মুসলমানদের অনেকেই এ শব্দটি বলে থাকেন। এটি আল্লাহর ‘লীলাখেলা’। সেটি আল্লাহর ‘লীলাখেলা’।

সুতরাং যারা না জানার কারণে কখনো এ শব্দটি বলেছেন, তাদের উচিত, মহান আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা। আর কখনো মহান আল্লাহর সঙ্গে এ শব্দের ব্যবহার না করা। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অযাচিত শব্দের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :