সুন্দরবনের গভীর অংশ নজরদারিতে আনতে ড্রোন ব্যবহারের চিন্তা

সুন্দরবনের গভীর অংশ নজরদারিতে আনতে ড্রোন ব্যবহারের চিন্তা

জাতীয়

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

সুন্দরবনে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট প্যাট্রোলিংয়ের সাথে ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনবিভাগ। এতে বন্যপ্রাণী পাচারসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি বনের আইন শৃংখলা যেমন নিয়ন্ত্রণে আসবে। তেমনি অন্যবাহিনীর ওপর বনবাহিনীর নির্ভশীলতা কমে আসবে। টিকে থাকবে বনের পরিবেশ।

উপকূলের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি অংশ। জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর এই  বন।  সীমিত আকারে মৎস্য ও মধু আহরণের অনুমতি থাকলেও এর জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় বন থেকে অন্য কোন সম্পদ আহরণের অনুমতি নেই। কিন্তু এখানে বন্যপ্রাণি হত্যা, বনজ ও জলজ সম্পদ পাচারসহ নানা ধরণের অপরাধ ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশাল এই আয়তনের এই বন রক্ষায় ১ হাজার ১শত ৮৩ জন নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৭শ ৮০ জন। বনে ৪টি রেঞ্জের ১৬টি স্টেশনে ৮৩টি অফিসের তারা দায়িত্ব পালন করে থাকেন।  পাচার নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ আইনের আওতায় আনতে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বনরক্ষীদের।

বনরক্ষীরা জানান,’লঞ্চ, স্পিডবোট নিয়ে সাইবার টেকারের মাধ্যমে এলিট ফোর্স নিয়ে আমরা অবজার্ভ করবো। স্মার্ট পেট্রোলিং পরিচালনার জন্য আমাদের আরও কিছু লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার।’

শুরু হওয়া স্মার্ট প্যাট্রোলিংয়ের সুফল আসা শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে বনের কোন কোন জায়গায় টহল দেয়া হচ্ছে, কোথায় অপরাধ হচ্ছে- তা জানা যায়। গভীর বনকে নজরদারির আওতায় আনতে ড্রোন ব্যবহার করার চিন্তা করছে বন বিভাগ।

খুলনা বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক মঈনুদ্দিন খান বলেন,’জিপিএস বেস্টড ট্রাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা স্মার্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করবো। আর ড্রোন আসলে সন্দর বনের যে জায়গাগুলো আমাদের স্টাফদের পক্ষে স্বশরীরে প্রবেশ কঠিন হয়ে যায়, সেখানে দেখতে পারবো।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রেখে অপরাধ দমন করতে বনরক্ষীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। না হলে, অপরাধ দমন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্টি এন্ড উড টেকনোলোজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোহম্মদ গোলাম রাকিবু বলেন,’যারা অপরাধ করতে আসে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের বিষয় আছে। আর যারা নিয়ন্ত্রণ করবেন তাদের সক্ষমতা কতটুকু আছে সেটা জানা দরকার।’

খুলনা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে. এম ইকবাল হোসেন জানান,’যারা এই মামলাগুলোর তদন্ত করেন। তদন্ত কর্মকর্তার মামলা লেখার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হতে হবে।’ 

দেশের বৃহত্তম সংরক্ষিত এই বনে বিলুপ্তপ্রায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ ৩শ ৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, মাছসহ ৩৭২ প্রজাতির জলজ প্রাণী আর ২৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।  

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :