তাহেরপুর পৌর এলাকার ফসলের মাঠ

হলুদে সেজেছে তাহেরপুর পৌর এলাকার ফসলের মাঠ

তাহেরপুর

আ: আলিম সরদার, নিজেস্ব প্রতিনিধি :

বর্ষার পর মাঠের পানি শুকিয়ে গেছে অনেক আগেই। আবার অনেক মাঠে আমন ধানও কেটে নেওয়া হয়েছে। এরপর চাষযোগ্য হয়েছে জমি। সেইসব মাঠে চাষ করা হয়েছে সরিষা। সবে গাছগুলোতে ফুল এসেছে। এখন যতদুর চোখ যায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কেবল হলুদ আর হলুদ। দেখে মনে হয় কেউ যেন হলুদবরণ আলপনা দিয়ে ঢেকে রেখেছে এই প্রান্তর।

সেই হলুদ ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মাঠের একপ্রাপ্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলেছে মৌমাছির দল। ফুলে-ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহে তাদের এই ছুটে চলা। গুনগুন গুঞ্জনে মুখরিত হলুদের মাঠ। খেতজুড়ে সরিষার এমন ফুলের মেলায় কৃষকের চোখে এখন হাসির ঝিলিক। তাহেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে এখন চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। প্রান্তরজুড়ে দোল খাচ্ছে শীতের শিশির ভেজা সরিষা ফুলের গাছগুলো।

সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে। যেন প্রকৃতিকন্যা সেজেছে হলুদবরণ সাজে। চির সবুজের বুকে এ যেন কাঁচা হলুদের আলপনা। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, উচ্চ ফলনশীল জাতের এ আবাদে চাষিরা ধারাবাহিতভাবে লাভবান হতে থাকায় তারা এচাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর চাষাবাদ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন কৃষি বিভাগ। তবে এবছর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের আবাদ করা জাতের মধ্যে রয়েছে বারী-১৪, ১৫ ও ১৭, বিনা-৪ ও ৯, টরি-৭ এবং স্থানীয় জাত। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে তাহেরপুর পৌরসভার ১২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে ১০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ওস্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে ২০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুল হলে এ চাষ থেকে ৬ হাজার ৫০ মণ সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সুত্রটি আরও জানান, গতবছর তাহেরপুর পৌরসভায় ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল। এবছর অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক মাঠে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সময়মত পানি শুকিয়ে জমি চাষযোগ্য হওয়ায় এ বছর চাষ কিছুটা বৃদ্ধি হয়েছে। তাহেরপুর পৌরসভার রসুলপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ওয়াসিম আকরাম চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। গতবছর এ চাষে লাভবান হওয়ায় এবার বেশি জমিতে এ আবাদ করেছেন তিনি। শুধু ওয়াসিম নন গ্রামের মাঠজুড়ে হয়েছে সরিষার আবাদ।

কৃষক মোঃ রনি আহম্মেদ, মোঃ এনামুলসহ আরও অনেকে জানান, আমন ও বোরো মৌসুমের মাঝখানে অনেকটা সময় মাঠের জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসময় উচ্চ ফলনশীল সরিষার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। তারা বলেন, উৎপাদিত সরিষা বিক্রির টাকা বোরো ধানচাষে ব্যয় করা হচ্ছে।

এছাড়া সরিষার কাঁটা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা। বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌর কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আঃ মতিন বলেন, চলতি বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এ কারণে গতবছরের তুলনায় সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :