হামিরকুৎসা ইউপি যুবদলের তালিকায় এক ‘জঙ্গি-ঘনিষ্ঠেরা’ও

হামিরকুৎসা ইউপি যুবদলের তালিকায় এক ‘জঙ্গি-ঘনিষ্ঠেরা’ও

রাজশাহী

নিজস্ব সংবাদদাতা:

রাজশাহীর বাগমারা, রানিনগর ও আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ২০০৪-এ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর অন্যতম সেকেন্ড কমান্ডার মাহাতাব খামারু। জেএমবি-কে আল কায়দার বাংলাদেশ শাখা হিসেবেও ঘোষণা করা হয়।

২০০৬-এ ধরা পড়ার পরে আদালতে দেওয়া এজাহারে সেকেন্ড কমন্ড মাহাতাব খামারু দাবি করে।এঁদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলছে। এই জিএমবি গুলো আজ বিএনপির ভরাডুবি নিয়ে এসেছে বাগমারা সহ সারা দেশে। তারি প্রতিফল হিসাবে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউপি যুবদলের সভাপতি মোঃ রতন খামারুর বড় ভাই বাংলা ভাইয়ের সেকেন্ড কমন্ডার মাহাতাব খামারু তার পরিবার জি এমবি।

বাগমারায় বাংলা ভাইয়ের উত্থানের পর তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন এই মাহাতাব খামারু। তার বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো আদালতে বিচারধীন রয়েছে। জানা যায়,বাংলা ভাইয়ের জীবদ্দশায় খামারুকে গ্রেফতার করে জয়েন্ট সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিলো।

এরপর তিনি ছাড়া পান। মাহাতাব এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে থাকতেন। তিনি গোপনে জেএমবিকে সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা করতেন। উল্লেখ্য, মাহাতাব খামারুর বাড়ি বাগমারা উপজেলার হামিকুৎসা ইউনিয়নের তালঘরিয়া গ্রামে। তিনি জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার। বাংলা ভাইয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিল।

২০০৪ সালে জেএমবির উত্থানের সময় রাজশাহী নগরীতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছিল এই খামারু। আর এই অস্ত্রের মহড়ায় ছিলেন তার ছোট ভাই মোঃ রতন খামারু বর্তমানে সে হামিরকুৎসা ইউপি যুবদলের সভাপতি। এছাড়া এই রতন খামারু ২০১৬ সাল অবদি ছিলে জাতীয় পার্টির কর্মী,তার বাবা ছিলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী খামারু।২০১৬ সালের পর থেকে আসতে আসতে রতন খামারু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ও সক্রিয় হন। পকেট কমেটির মাধ্যমে রতন খামারু হামিরকুৎসা ইউপি যুবদলের সভাপতি হয়।

হামিরকুৎসা ইউপির এক সাবেক যুবদল নেতা বলেন, রতন খামারু পদে আসতে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমেটির পাশাপাশি জেলা যুবদলের নেতাকে দিতে হয়েছে টাকা এছাড়া বাসার বাজার করে দিতে হয়েছে রতন খামারুর। যুবদলের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং এবং জিএমবি সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছে রতন খামারু।এই জিএমবি পরিবারের সদস্য কারনে আজ হামিরকুৎসা ইউপি যুবদল আজ সাধারন মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

এতে করে সাধারন নেতা ও মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিএনপি থেকে তাদের দাবি জিএমবি পরিবারের সাথে তারা রাজনৈতি করতে চায় না। যে পরিবার মানুষ খুন করতে পারে সে পরিবার কখনো ভালো হতে পারেনা। বাংলাভাই বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর মাহাতাব খামারু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা সদস্যদের সঙ্গে এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। তাই এলাকাবাসীর দাবী প্রশাসনের কাছে জিএমবি পরিবারের কাছ থেকে হামিরকুৎসা ইউপিবাসীকে বাঁচানো।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :