রাজশাহীতে ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

রাজশাহী

নিহাল খান :

রাজশাহীতে ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ জন নারী ও শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে।এরমধ্যে ৩ শিশু ও নারী ০৭ জন।  গতকাল শনিবার (১লা মার্চ) উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

লফস জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে অমানবিক কিছূ ঘটনার মধ্যে-নগরীতে হেলেনা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী কে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে, দুর্গাপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী আহত ও ফেরদৌসী বেগম (৫৫) নামে এক নারী কে হত্যার অভিযোগ,নগরীতে শাবানী নামে এক নারী নিঁখোজ, তানোর উপজেলার উত্তর পাড়া গ্রামে এক নারী (৩৩) কে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, পুঠিয়া উপজেলায় বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে আহত, মোহনপুর উপজেলায় বাটুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে যৌনহয়রানির অভিযোগ পিয়ন কাম নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে, বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মহল্লার তাহসিন হোসাইন রাফি (১৩) নিঁখোজ, গোদাগাড়িতে চাচা কর্তৃক আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার, পুঠিয়া উপজেলায় বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে রিফাত হোসেন (১২) নামে এক শিশু নির্যাতনের শিকার ।

লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদ পত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না এমন বাস্তবতায়।রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক।রাজশাহী অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতন সহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তিনি বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।লফস সকল নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবী জানান।    

উল্লেখ্য, উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) অত্র জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নারী ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে লফস সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেল থেকে রাজশাহীর প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি প্রকাশ করে।

লফস মনে করে, অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে।যৌতুক ও পরকীয়ার কারনে অধিকাংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়াল পরকিয়াকে উৎসাহিত করছে।এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।বিষয়গুলো কারও জন্য সুখকর নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *