রংপুরে ভুূয়া বিবাদী সাজানোর মামলায় নাজমুল হুদা জেল হাজতে, রিমান্ড চেয়ে আবেদন

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরে ভুূয়া বিবাদী সাজিয়ে কোর্টে প্রেরণ করায় প্রতারণায় নাজমুল হুদাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত যার মামলা নং (সিআর ৩১১/২৩)।

রবিবার ২১ মে সিআইডি আদালত রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সিআইডি পুলিশের এসআই সোহরাব হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ১৭ই মে বুধবার দুপুর ৩টায় নাজমুল হূদাকে কাচারি বাজার থেকে গ্রেফতার করে। পরে ১৮ই মে বৃহস্পতিবার কোর্টে প্রেরণ করলে কোর্ট জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।

এব্যাপারে মামলার বাদী খোরশেদুর রহমান প্রিন্স বলেন, গত (৭ই মার্চ ২৩ ইং) তারিখে দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা (৩)জজ আদালত আমার ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থ দন্ডে দন্ডিত করে রায় প্রকাশ করিলে, আমি লোক মারফত সাজা পরোয়ানার কথা জানতে পারি হতবাক হয়ে যাই। পরবর্তীতে মামলার বাদী আইন এবং বিজ্ঞ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখিয়া ৬৯ লক্ষ টাকার ৫০% টাকা যার চালান নং (৮৭০) (১৩ই মার্চ ২৩)সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান শর্তে আদালত আমাকে জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে আমি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের উক্ত রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে একটি আপিল মামলা করি।

সেই মামলার আসামিগণ পরস্পর যোগসাজশে আমাকে ৬৯লক্ষ টাকা প্রতারণা ও অপরাধ মূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে আমার রূপ ধারণ করিয়া লিগাল নোটিশ গ্রহন করে। এবং মিথ্যা সাক্ষ প্রদান করে আমার বিরুদ্ধে সমন গ্রহণ করে। নাজমুল হূদা নিজেই খোরশেদুর রহমার প্রিন্স সাজিয়া আদালতে জামিন গ্রহণ করে। পরবর্তীতে আমাকে পলাতক দেখিয়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থ দন্ডে দন্ডিত করে আদালতে রায় মঞ্জুর করে।

এবিষয়ে খোরশিদুর রহমান প্রিন্স বলেন আমি রংপুর কোর্টে একটি মামলা করেছি। যার মামলা নং (সিআর ৩১১/২৩)। এই মামলায় নাজমুল হূদাকে সিআইডি পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করলে আদালত তাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

বিগত দিনেও নাজমুল হূদার নামে রংপুর নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের রেলগেট বিনোদপুর এলাকায় ৭৪ শতক জাল দলিল দিয়ে জমি বিক্রয় করার জন্য থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-১৬/১২৩। সেই মামলার আসামি মোঃ নাজমুল ইসলাম হুদা, পিতা-মৃতঃ আব্দুল জব্বার, ও কুসুম আক্তার (২৭) স্বামী- মোঃ নাজমুল ইসলাম হুদা উভয় সাং- মেসার্স হুদা ট্রেডার্স, পিটিসি রোড, রংপুর। ১৫ মার্চ ২৩ দুপুরের দিকে মেট্রো কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। তফশীলভুুক্ত মৌজাঃ বিনোদপুর জে এল-৯৮, সিএস খতিয়ান নং- ৩৬, এস এ খতিয়ান নং- ৩১, আরএস খতিয়ান নং- ৩১, খারিজ খতিয়ান নং- ৪৫০, হোল্ডিং- ৪৪৮, সিএস/এসএ দাগ নং- ১৫৬, ১৭৭, ১৬২, ১৬৪, হালদাগ নং- ৩১৫, ৩১৬, সর্বমোটঃ- ৭৪ শতক জমি।

এজাহার ও বাদী সূত্রে জানাযায়, মামলার বাদী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে প্রিন্স টুর এন্ড ট্রাভেলস নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নাজমুল ইসলাম হুদা ও তার স্ত্রী কুসুম আক্তার এসে জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দেন। সেখানে খোরশেদুর রহমান প্রিন্সের প্রতিনিধিরা যেয়ে জমি দেখে এসে ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করেন। তখন নাজমুল হুদা তার জাল দলিল নং- ১৬৬০২ তারিখে ২১-০২-১৯৯২ ইং প্রতারণা উদ্দেশ্যে প্রতিনিধিদের নামে উক্ত জমি অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তার নামা দলিল নং- ১৯৯৮৯/২১ মূলে প্রতিনিধিদেরকে দলিল করে দেয়। যাহার মূল্য ৭৫,০০,০০০/- (পঁচাত্তর লক্ষ) টাকা এর মধ্যে নগদ ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা পরিশোধ করে। তাদের পক্ষে খোরশেদুর রহমান প্রিন্স অবশিষ্ট টাকার বিনিময়ে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল শাখার হিসাব নং- ২০৫০৬৫৭০৯০০০০০১১৪ এর জন্য ইস্যুকৃত চেকের পাতা নং- আইডিবি- ১৪৯৮৬০৯ নাম্বারে বাকি ৬৯,০০,০০০/- (উনসত্তর লক্ষ) টাকার স্বাক্ষরিত চেক প্রদান করে। পরবর্তীতে জমির দলিল যাচাই করার জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে এই দলিলের কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। সেক্ষেত্রে নাজমুল হুদাকে জাল দলিলের বিষয়ে অবগত করে এবং নগদ ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা ও চেক ফেরত চাইতে গেলে আসামি নাজমুল হুদা সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।

খুরশিদুর রহমান প্রিন্স আরো বলেন, নাজমুল হুদা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া প্রতারণা করিবার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। খুরশিদুর রহমান প্রিন্স মামলার বিষয়ে নাজমুল হুদার কাছে জানতে চাইলে তার কাছ থেকে ৬৯,০০,০০০/- (উনসত্তর লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। যদি ৬৯,০০,০০০/- (উনসত্তর লক্ষ) টাকা না দেয় তাহলে সে মামলা তুলে নেবে না। ওয়ারেন্ট বের করে জেল খাটাবে বলে আমাকে হুমকি দেয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আসামি নাজমুল হুদা অন্য ব্যক্তিকে কোর্টে হাজির করে জামিন করায়। পরবর্তীতে ঐ ব্যক্তিকে কোর্টে হাজির না দেখাইয়া খুরশিদুর রহমান প্রিন্সকে পলাতক দেখাইলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ঐ মামলায় ১৩/৩/২০২৩ তারিখে খুরশিদুর রহমান প্রিন্স বিজ্ঞ আদালতে জামিন লাভ করেন। জামিন নেওয়ার পর থেকে নাজমুল হুদার লোকজন হুমকি ধমকি দিতে থাকে ।

ও(১৩ই মার্চ ২৩)ইং তারিখে বিকালের দিকে কোর্টের কাজ শেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টার্মিনালের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার জামে মসজিদের সামনে নাজমুল হুদা ও অপরিচিত ১০-১২ জন ব্যক্তিরা পথরোধ করে ৬৯,০০,০০০/- (উনসত্তর লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাহাকে ধাক্কাধাক্কি করে। একই সংগে মারার প্রস্তুতি নিলে তখন খোরশেদুর রহমান প্রিন্স চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আসিয়া উদ্ধার করে।

এব্যাপারে সিআইডির এসআই সোহরাব হোসেনকে মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি জানান বুধবার দুপুর ৩টায় কাচারি বাজার থেকে নাজমুল হুদাকে গ্রেফতার করে ও বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরন করে পরে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *