রাজশাহীতে পাওয়ার ট্রলির ধাক্কায় এনজিও কর্মী নিহত

রাজশাহীতে পাওয়ার ট্রলির ধাক্কায় এনজিও কর্মী নিহত

রাজশাহী

মোঃ ইসরাফিল হোসেনঃ

অবৈধ পাওয়ার ট্রলির ধাক্কায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বলিহার গ্রামের কার্তিক চন্দ্র সরকারের একমাত্র ছেলে সঞ্জয় কুমার সরকার (২৮) নিহত হয়েছে। সঞ্জয় কুমার নওগা জেলার আত্রাই উপজেলায় আইডিএফ এনজিওতে মাঠ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন ।

শনিবার (৪ এপ্রিল’২৪) নওগা জেলার আত্রাই উপজেলার আত্রাই টু নওগাঁ সড়কের সাহাগোলা রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী সাহাগোলা-শিমুলিয়ায় রাস্তার রেলক্রসিংয়ে পাওয়ার ট্রলি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মারা যান সঞ্জয় কুমার। এসময় সিএনজি চালকসহ আরও ৩ জন আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাঘা উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, মরদেহ বাড়িতে এনে শনিবার সন্ধ্যায় মীরগঞ্জ শ্বসানে দাহকা সম্পন্ন করা হয়েছে।

সঞ্জয় কুমার সরকারের অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাঘা উপজেলা শাখার সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে গভীর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে রাণীনগর থেকে আত্রাইয়ে আসছিল। পথিমধ্যে শিমুলিয়া রেলগেট এলাকায় একটি ইটভাঙা পাওয়ার ট্রলিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সঞ্জয় কুমার নিহত হন। চালকসহ যাত্রী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আগের দিন শুক্রবার ( মে) তীব্র দাবাদাহের মধ্যে মাঠ থেকে ধানের বোঝা বহনের সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় আশিক ইসলাম (২৪) নামে এক শ্রমিক মারা গেছে। আশিক ইসলাম রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। সে নাটোরের সিংড়া উপজেলার খড়খড়ি গ্রাম এলাকায় ধান কাটার কাজে গিয়েছিল।

শ্রমিক দলের রেজাউল করিম জানান, সকালের দিকে আশিকসহ ১৪ জন শ্রমিক এক মালিকের ধানের জমিতে ধান কাটছিলাম। দুপুরের দিকে ধানকাটা শেষ করে আঁটিবাঁধা ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে মাড়াইয়ের মালিকের বাসায় নিচ্ছিলাম। আঁটিবাঁধা ধানের বোঝা বহনকালে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশিক হোসেন প্রচন্ড গরমে মাটিতে পড়ে লুটে পড়ে সেখানেই মারা যায় ।

উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, তীব্র তাপদাহে হিট স্ট্রোকে আশিক ইসলামের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। শনিবার (৪মে) সকাল ৯টায় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *